
বরিশাল জেলার একমাত্র দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ। যার চারদিকে নদী দ্বারা বেষ্টিত। দেশের প্রধান নদীগুলোর অন্যতম নদী মেঘনা বয়ে গেছে মেহেন্দিগঞ্জের বুক চিঁড়ে। ভাঙ্ন মেহেন্দিগঞ্জ বাসীর কাছে নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পূর্বেকার সকল রেকর্ড ভেঙ্গে এবার খরা মৌসুম থেকেই শুরু হয়ে গেছে ভাঙ্গনের তীব্রতা। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার চরএককরিয়া ইউনিয়নের উত্তর দাদপুরচর ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে নদী দক্ষিণ প্রান্তে প্রধান সড়কের একেবারে কাছে চলে এসেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেঘনা নদীর ভাঙ্ভাগনের করাল গ্রাস থেকে আলিগঞ্জ বটতলা থেকে হিজলার বাউশিয়া এলাকা পর্যন্ত নদীর পাড় জিও ব্যাগসহ ব্লক বসিয়ে ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়ার দাবীতে মেঘনার পাড়ে উত্তর দাদপুর পুরাতন ফেরিঘাটে হাজারো বাসিন্দা মানববন্ধন করেছে। পরে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। বিকাল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এ মানববন্ধন চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। মানববন্ধনে দাবী আদায়ের স্লোগান সম্বলিত নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে স্থানীয় মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থী, এলাকার নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেন। তাদের দাবী একটাই, ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহন। তারা এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে পৌঁছেছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে যদি কোনো প্রকার পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে চরএককরিয়া ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে উত্তরচর, উত্তর দাদপুরচর, কোলচর ও তরইলিশাসহ আরো অগনিত গ্রাম। মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে চরএককরিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড উত্তর দাদপুরচরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া উত্তর দাদপুরচর সরকারি আদর্শ গ্রামের ৫০টি ঘরের মধ্যে ইতিমধ্য ২৫টি প্রমত্তা মেঘনার পেটে চলে গেছে। এখন পর্যন্ত যারা ভাঙ্গনের সাথে যুদ্ধ করে কোনো রকম টিকে আছে তারাও রয়েছে আতংকে। যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে তাদের বসত ভিটাসহ শেষ সম্বলটুকু। হুমকির মুখে পড়েছে উঃ দাদপুরচর কেরাতুল কুরআন মাদরাসাটও। প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী দ্বীনি শিক্ষা গ্রহন করছে এই মাদ্রাসাটিতে। মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০০৪ সালে এই মাদ্রাসাটি যখন প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন নদী ছিলো ২ কিলোমিটার দূরত্বে। এখন মাত্র কয়েক গজ। তিনি আরো জানান, এই অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার সূতিকাগার হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে এই মাদ্রাসাটি। ভাঙ্গন কবলিত ৪টি গ্রামে আরো হুমকির মুখে আছে ১০টি মসজিদ, ১টি এতিমখানা, ৫টি মাদ্রাসা, ৩টি সাইক্লোন সেল্টার, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ১০ হাজার লোকের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক হুমায়ুন কবির রাড়ী বলেন, নদী ভাঙনের কারণে এলাকার মানুষের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিরোধের উদ্যোগ না নিলে এদের নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। এলাকাবাসির দাবী, একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড উত্তর চর এলাকার বাঁধের সাথে মিল করে উত্তর দাদপুর এলাকাটি দ্রুত বাঁধ দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। চলতি বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারি পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। মানববন্ধনের সার্বিক সহযোগিতা করছে ৩নং চরএককরিয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দল নেতা মোঃ আবদুল্লাহ। মানববন্ধনটি আয়োজনে ছিলো জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ৩নং চরএককরিয়া ইউনিয়ন ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নবাসী।
Leave a Reply