মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রতি বছর বর্ষায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দড়িচর খাজুরিয়া ও জয়নগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ নদীভাঙ্গনে সর্বসান্ত হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে পাউবোর কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। এবার বর্ষার আগেই খরা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে তীব্র হচ্ছে নদী ভাঙন। নদী গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, বাঁশঝাড়, বাগান, কবরস্থান, রাস্তা-ঘাট, স্কুল, মাদরাসাসহ পাকা-আধাপাকা স্থাপনা।
সব হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ। ধারাবাহিক ভাঙ্গনে দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৭০ শতাংশ গজারিয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ ভূমি রক্ষার আন্দোলনে নেমেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এ লক্ষে শনিবার(৫এপ্রিল) বিকাল ৪টায় দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে গজারিয়া নদীর তীরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারীরা গজারিয়া নদী ভাঙ্গন রোধে সরকারকে ১৫দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে সরকার যদি কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয় তাহলে ধর্মঘট ডেকে গজারিয়া নদীতে সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিবো। প্রয়োজনে ভাঙ্গনে হুমকির মুখে থাকা হাজারো মানুষ জীবন বিলিয়ে দিবো।
দক্ষিণাঞ্চলকে অচল করে দেওয়ার হুশিয়ারীও দেন তারা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জয়নগর ইউনিয়নের বাসিন্দা সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ এর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা মোঃ নুরুল ইসলাম, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন, দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন নান্নু সিকদার, জিয়াউল হক হাসান, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, খরা মৌসুমে যেভাবে নদী ভাঙ্গছে দেখা দিয়েছে এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে বর্ষায় উপজেলার মানচিত্র থেকে দুটি ইউনিয়ন মুছে যাবে। কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙ্গনে কয়েকশো একর ফসলি জমি, অর্ধশতাধিক বসতভিটা, হাট-বাজার, মসজিদ মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ হাজারো বসতভিটা এবং ফসলি জমি। এদিকে ভাঙ্গনরোধে দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রাথমিক কিছু কাজ করে যাচ্ছেন।
<p>প্রকাশক ও সম্পাদক : মো:রাকিবুল হাছান(ফয়সাল রাকিব)</p>
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ সংবাদ।। Mehendiganj Sangbad. All rights reserved.