বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে তরুণীকে কৌশলে ডেকে এনে ধর্ষণ ও ভিডিওচিত্র ধারণ করেছে এক দুর্বৃত্ত। এরপর এই ভিডিও ওই নারীর স্বামী ও ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় সে। ভুক্তভোগীর এমন অভিযোগে মোঃ খোকন মোল্লা (৪৫) নামের এক যুবককে শনিবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধর্ষক খোকন মোল্লা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের চরখাগকাটা গ্রামের মোঃ শাহ আলম মোল্লার ছেলে।
তার বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ এবং ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফখরুল ইসলাম তাকে গ্রেফতার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে সুত্রে জানা যায়,
আসামী মোসাঃ শারমিন বেগম ও বাদিনী একই বাড়ির মালিকের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। আসামী মোঃ খোকন মোল্লর নিউ শিমলা বেকারিতে চাকুরি করেন ২নং আসামী মোসাঃ শারমিন বেগম এর স্বামী রুবেল হোসেন। যার ফলে তারা উভয় পূর্ব পরিচিত। গত ইং ০২/১০/২০২৪খ্রি. তারিখ সকাল ০৮.১০ ঘটিকার সময় মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার কালিকাপুর ওয়ার্ডের কালিকাপুর রমিজউদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে হতে ২নং আসামী মোসাঃ শারমিন বেগম বাদিনীর মেয়েকে ভুল বুঝিয়ে, ফুসলিয়ে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করিয়া একই তারিখ সকাল ০৮.৩০ ঘটিকার সময় পাতারহাট স্টীমার ঘাট হতে লঞ্চ যোগে বরিশাল নিয়ে যায়। কিছুক্ষন পরে আসামী মোঃ খোকন মোল্লা এসে ২নং আসামী মোসাঃ শারমিন বেগম এর সাথে বাদিনীর মেয়েকে অটোযোগে বরিশাল শহরের একটি আবাসিক হোটেল এর রুমের ভিতরে নিয়ে যায়। এরপর রুমের ভিতরে নিয়ে তরুণীকে রেখে ২নং আসামী শারমিন বেগম রুম থেকে বের হয়ে যায়। তারপর আসামী মোঃ খোকন মোল্লা তরুণীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে এবং তার ব্যবহৃত স্মাট মোবাইল ফোন দিয়ে তরুণীর নগ্ন অবস্থায় ভিডিও এবং স্থির চিত্র ধারন করে তরুণীকে বলে এই কথা যদি বাহিরে কাউকে বলিস তাহলে তোরে নগ্ন চিত্র ও ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করিবে মর্মে হুমকি প্রদান করে। এরপর তরুণীকে নিয়ে ২নং আসামী মোসাঃ শারমিন বেগম মেহেন্দিগঞ্জ চলে আসে।
গত ১৫ দিন পূর্বে তরুনী বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসলে অভিযুক্তরা নগ্ন চিত্র ও ভিডিও তরুণীর স্বামী ও তার জা এর মোবাইল ফোনে পাঠায়।
গত ০৮/০৭/২০২৫খ্রি. বিকাল ০৬.০০ ঘটিকার সময় তরুণী তার শ^শুর বাড়িতে যেতে চাহিলে তাকে যেতে নিষেধ করেন স্বামী। এক পর্যায়ে তরুণীর অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও দেখে তার স্বামী তাকে পরিত্যাগ করেন।
ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তরুণীকে দেখা করার নামে আসতে বাধ্য করার চেষ্ট করতো ও উত্ত্যক্ত করে আসছিল খোকন মোল্লা। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীর স্বামী ও শশুর শাশুড়ীর মোবাইলে ধারণ করা ওই ভিডিওচিত্র পাঠায় সে। সেই সঙ্গে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় তরুণীর মা লাবনী বেগম বাদী হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে খোকন মোল্লা এবং তাকে সহায়তাকারী মোসাঃ শারমিন বেগমকে অভিযান পরিচালনা গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান শারমিন বেগম বেকারি মালিক খোকন মোল্লাকে মেয়ে সাপ্লাই দিতেন। অভিযুক্ত খোকন মোল্লার একাধিক নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা রয়েছে।
বাদীনি বলেন, আমি মামলা করেছি, পুলিশ তদন্ত করবে, কিন্তু আপনাদের কাছে কিছু বলবো না।
মেহেন্দিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে থানা মামলা রুজু করিয়া মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট এজাহারনামীয় দুইজন আসামীকে গ্রেফতারসহ মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট মুঠোফোন জব্দ করেন এবং আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। তিনি জানান, নিউ শিমলা বেকারির মালিকের মোবাইল ফোন, ওই ভিডিও এবং স্থিরচিত্রগুলো উদ্ধার করে তা জব্দ করা হয়েছে। আসামীর ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
<p>প্রকাশক ও সম্পাদক : মো:রাকিবুল হাছান(ফয়সাল রাকিব)</p>
Copyright © 2026 মেহেন্দিগঞ্জ সংবাদ।। Mehendiganj Sangbad. All rights reserved.