1. admin@mehendiganjsangbad.com : admin :
  2. labpoint2017@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
মেঘনার করাল গ্রাসে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় উলানিয়ার ৮ গ্রাম - মেহেন্দিগঞ্জ সংবাদ।। Mehendiganj Sangbad
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
প্রতিটি ইউনিয়ন ১ জন করে সংবাদকর্মী আবশ্যক। যোগাযোগ :০১৭১১০৭৩৮৮৪
সংবাদ শিরনাম :
জুমার নামাজ আদায় না করলে যে শাস্তি মেহেন্দিগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে তালিমি জলসা ও দোয়া মাহফিল দুই প্রকল্পে বাংলাদেশকে ১২ মিলিয়ন ইউরো দেবে জার্মানি মেহেন্দিগঞ্জে পানিতে ডুবে একইদিনে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু। ১৫ নং আদর্শ নগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান আব্দুল মানান সরদার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্নার মেয়ের ওপর বরিশালে হামলা! মেহেন্দিগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, মেহেন্দিগঞ্জে চাঞ্চল্য তরুণ সাংবাদিক নেতা ফয়সাল রাকিবের জন্মদিন আজ বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

মেঘনার করাল গ্রাসে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় উলানিয়ার ৮ গ্রাম

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩২৮ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি।। 
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দুটি ইউনিয়ন দক্ষিন ও উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন মেঘনা নদীর ভয়াল ভাঙনের মুখে।
উপজেলার ইউনিয়ন দুটির উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের ধুলখোলা, বালিয়া, হাসানপুর, উলানিয়া ও পালপাড়া থেকে দক্ষিন উলানিয়ার আশা গ্রাম, পূর্ব সুলতানী, পশ্চিম সুলতানী ও যাদুয়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, নদী আর গ্রাম এই দুইয়ের লড়াইয়ে প্রতিদিনই একটু একটু করে হারাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই এই এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তবে চলতি বছর বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে নদীর তীরবর্তী বেশ কিছু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিদিনই নদী ভাঙনের শব্দ আর আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন দুই ইউনিয়নের ৭ গ্রামের সিন্দারা।
ধুলখোলার বাসিন্দা ইউসুফ আলী সৈকত বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা এলেই আমাদের দুঃস্বপ্ন শুরু হয়। রাত জেগে পাহারা দিতে হয় কখন নদী ঘর গিলে ফেলে। আমরা আর কতদিন এভাবে থাকব। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীতে চলে যাবে। তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
একই এলাকার গৃহবধূ রহিমা বেগম জানান, আমাদের একাধিকবার ঘর সরাতে হয়েছে। এখন আর কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব ভয়ে আছি।
স্থানীয় কৃষকরাও জানিয়েছেন, নদীভাঙনের কারণে তাদের চাষযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে, ফলে জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চললেও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝে মাঝে জরুরি ভিত্তিতে কিছু বালুর বস্তা ফেলা হলেও তা টেকসই নয় এবং বর্ষার স্রোতে দ্রুত ভেসে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘনা নদীর তীব্র স্রোত, চর জেগে ওঠা ও ভাঙনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার কারণে এই অঞ্চলে প্রতিবছরই নদীভাঙন বাড়ছে। তবে সময়মতো পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, জিওব্যাগ ফেলা এবং নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
দক্ষিন উলানিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিলন চৌধুরী বলেন, মেঘনা এখন আমাদের গ্রাম গুলো গিলে খাচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে শুধু উলানিয়া জমিদার বাড়ী এলাকায় ব্লকের কাজ হয়েছে। বাকি ৭ টি গ্রাম এখন ঝুঁকির মূখে পড়েছে।
নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে কয়েক হাজার পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু বসতভিটাই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক এবং স্থানীয় অবকাঠামোও হুমকির মুখে রয়েছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর জোর দাবি দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নদী তীর সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ করে তাদের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা হোক। অন্যথায়, মেঘনার করাল গ্রাসে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে দুই উলানিয়ার এই জনপদ।
এবিষয়ে আলাপকালে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জাবেদ ইকবাল বলেন, দক্ষিন উলানিয়া থেকে উত্তর উলানিয়ার লালপুর পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হয়ে এলেই কাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান নদীর ওই এলাকা ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় একটি ডিওলেটার দিয়েছন। ওই অংশটিও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবে।
তিনি বলেন, দুই উলানিয়ায় নদী ভাঙ্গন রোধে নেওয়া নতুন এই প্রকল্পের আওতায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৪টি প্যাকেজে স্থায়ী নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে মেঘনা তীরবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ###

সংবাদটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ