1. admin@mehendiganjsangbad.com : admin :
  2. labpoint2017@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
বরিশালে সয়াবিনের আবাদ বেড়েছে, ইরি-বোরো ও রবি ফসল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক - মেহেন্দিগঞ্জ সংবাদ।। Mehendiganj Sangbad
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
প্রতিটি ইউনিয়ন ১ জন করে সংবাদকর্মী আবশ্যক। যোগাযোগ :০১৭১১০৭৩৮৮৪
সংবাদ শিরনাম :
মেহেন্দিগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেফতার ৫, আতঙ্কে গা-ঢাকা দিচ্ছে কারবারিরা! প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ মেহেন্দিগঞ্জে কৃষকদের মাঝে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সার-বীজ বিতরণ! মেহেন্দিগঞ্জে কৃষকের খড়ের গাদা পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা! মেহেন্দিগঞ্জে গ্রেফতার আতঙ্কে দিশেহারা মাদকসেবীরা: গাঁজাসহ আরও ২ জন গ্রেফতার। মেহেন্দিগঞ্জে হরদমে চলছে জাটকা নিধন । অভিযানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন। মেহেন্দিগঞ্জে পুকুরে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু! ওসির ম্যাজিকে পাল্টে গেল মেহেন্দিগঞ্জ মেহেন্দিগঞ্জে ৭৩৯ কোটি টাকার-নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী- রাজিব আহসান! বাকেরগঞ্জের মধ্য নলুয়ায় ঈছালে ছওয়াব মাহফিল, দোয়া-মোনাজাতে সমাপ্ত

বরিশালে সয়াবিনের আবাদ বেড়েছে, ইরি-বোরো ও রবি ফসল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ২০৮ Time View

কম খরচে অধিক লাভের আশায় বরিশাল কৃষি অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে সয়াবিনের আবাদ। চলতি ইরি-বোরো ও রবি মৌসুমে বিভাগে সয়াবিনের আবাদ বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। একই সময়ে ইরি-বোরো ও অন্যান্য রবি ফসলের আবাদ কমেছে প্রায় ৭-১০ শতাংশ বলে জানিয়েছে বরিশাল কৃষি বিভাগ।

 

 

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) বরিশাল অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রবি মৌসুমে বিভাগে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার হেক্টর জমিতে, যেখানে গত ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর। এ বছর ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৪৮৬ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে ৪২ হাজার ৩৬৩ হেক্টর জমিতে।

 

অন্যদিকে, একই সময়ে ইরি-বোরো ধানের আবাদ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার হেক্টরে, যা গত বছর ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর। রবি ফসল (গম, সরিষা, মুগডালসহ) মিলিয়ে আবাদ কমেছে প্রায় ১৫-২০ হাজার হেক্টর। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইরি-বোরো চাষে প্রতি হেক্টরে গড়ে খরচ হয় ৮৫-৯৫ হাজার টাকা, সেখানে সয়াবিনে খরচ পড়ে ৪৫-৫৫ হাজার টাকা।

 

প্রতি হেক্টরে সয়াবিনের ফলন গড়ে ১.৪ থেকে ১.৮ টন। বর্তমান বাজারদর প্রতি কেজি ৬৫-৭৫ টাকা হওয়ায় কৃষকরা ভালো মুনাফার আশা করছেন। বরিশাল সদর উপজেলার কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ধান চাষে খরচ বেশি, লাভ কম। সয়াবিনে খরচ অর্ধেক, লাভ তুলনামূলক বেশি তাই আমরা সয়াবিন চাষে যাচ্ছি। বরিশাল অঞ্চলের কৃষি কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে সয়াবিন ভালো ফলন দিচ্ছে। তুলনামূলক কম সেচনির্ভর হওয়ায় খরচ কমছে।

 

তবে তারা সতর্ক করে বলেন, একমুখী ফসল আবাদ দীর্ঘমেয়াদে মাটির পুষ্টি ও বাজারদরের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অধিক লাভের আশায় বরিশাল কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন। ফলে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ও বিভিন্ন রবি ফসলের আবাদ কিছুটা কমে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, ধান ও অন্যান্য রবি শস্যের পরিবর্তে অনেক জমিতেই এখন সবুজ সয়াবিনের সমারোহ।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা সহনশীল ও তুলনামূলক কম সেচনির্ভর ফসল হওয়ায় সয়াবিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব জমিতে ইরি-বোরো চাষে বেশি সেচ ও সার প্রয়োজন হয়, সেখানে কৃষকরা বিকল্প হিসেবে সয়াবিন বেছে নিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ইরি-বোরো চাষে বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ বেশি। অন্যদিকে সয়াবিনে খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারদরও স্থিতিশীল থাকায় লাভের সম্ভাবনা বেশি।

 

ফলে একই জমিতে কম বিনিয়োগে ভালো মুনাফা পাওয়ার আশায় তারা ফসল পরিবর্তন করছেন। তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ফসলের বৈচিত্র্য বজায় রাখা জরুরি। অতিরিক্ত সয়াবিন আবাদে মাটির পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও বাজার ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। পরিকল্পিত আবাদ নিশ্চিত করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে চলতি মৌসুমে সয়াবিনের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

 

কৃষি বিভাগ বলছে, বাজার স্থিতিশীল থাকলে আগামী মৌসুমে আবাদ আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানি নির্ভরতা কমতে পারে। তবে একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা বিবেচনায় ইরি-বোরো ধানের আবাদ কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

এদিকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। বাজারব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলে আগামী মৌসুমে সয়াবিনের আবাদ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো: নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ইরি-বোরো ধানের আবাদ ধরে রাখা জরুরি। পরিকল্পিত ফসল ব্যবস্থাপনা না হলে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে

সংবাদটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ