1. admin@mehendiganjsangbad.com : admin :
  2. labpoint2017@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
সংকটে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প - মেহেন্দিগঞ্জ সংবাদ।। Mehendiganj Sangbad
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
প্রতিটি ইউনিয়ন ১ জন করে সংবাদকর্মী আবশ্যক। যোগাযোগ :০১৭১১০৭৩৮৮৪
সংবাদ শিরনাম :
স্কুল-কলেজসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা টিএসসিতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গাড়িসহ আটক ২ অবিবাহিতদের ক্যানসার ঝুঁকি বেশি মেহেন্দিগঞ্জে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা একমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্র কার্যত অচল, ভোগান্তি মেহেন্দিগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তিন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস! মেহেন্দিগঞ্জে ২ স্কুলে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ আহত ১৬ মেহেন্দিগঞ্জে মৎস্য অফিসের অভিযানিক দলের ওপর হামলা: মামলা দায়ের, আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ! মেঘনার করাল গ্রাসে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় উলানিয়ার ৮ গ্রাম মেহেন্দিগঞ্জ স্টিমারঘাটে প্রেমিক যুগলকে মারধর, তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্য

সংকটে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৯০ Time View

নানা সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প। আয় কমে যাওয়ায় পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁতিরা। সুতাসহ উপকরণের মূল্য নির্ধারণ ও স্বল্প সুদে ঋণ দিলে এ শিল্প সচল করা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁত মালিকরা। তাই শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে ঋণ দিচ্ছে তাঁত বোর্ড। সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের। বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের প্রাচীন ইতিহাস। একসময় তাঁতিদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি হত রঙ-বেরঙের সুতায় বোনা চাদর, কাপড়, বেড কভার, গামছা, লুঙ্গি, ওড়নাসহ নানা পণ্য।

 

কিন্তু এখন তৈরি হচ্ছে শুধু গামছা আর মশারি। স্বাধীনতার পর থেকেই বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় শুরু হয় তাঁত বোনা। সেসময় প্রতিটি ঘরেই তাঁত ছিল ১৫ থেকে ২০টি। দুই উপজেলার প্রায় চার শতাধিক পরিবারকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল সম্ভাবনা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার পথে সেই ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার দুয়ার। বর্তমানে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টি পরিবার। আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়নের বাসিন্দা নোমানুর রশিদ। এক চালা টিনের ঘরের মধ্যে দুটি তাঁতে বুনছেন গামছা। পূর্ব পুরুষ থেকেই হস্তচালিত তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত তারা। শুরুর দিকে ১৮টি তাঁত চলতো তাদের এ বাড়িতে। কিন্তু নানা সংকটে মুখে পড়ে এখন আছে মাত্র তিনটি।

 

তাঁতিরা জানান, তারা তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে তাঁতিদের মঞ্জুরিও অনেক সময় শোধ করতে পারছেন না তারা। রং, সুতার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার করণে তারা লাভবান হতে পারছেন না। তাই আস্তে আস্তে অনেকে এ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। কাঁচামালের বেশি দাম ও বিক্রির সময় দাম কম হওয়ায় লাভের মুখ দেখছে না এ পেশায় জড়িতরা। সুতাসহ উপকরণের মূল্য নির্ধারণ করে এবং স্বল্প সুদে ঋণ দিলে এ শিল্প সচল করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁত মালিকরা।

 

তাঁতিরা আরও জানান, এখন তাদের ১০ থেকে ১২টি মেশিন চলছে তারা বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। আগৈলঝাড়া তাঁত মালিক সমিতি সভাপতি ফেরদৌস ইসলাম বলেন, আমাদের তাঁতপ্রতি ৪০ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হয়। যদি ঋণ আরও বাড়ানো হতো তাহলে ভালো হতো। তাঁত বোর্ড বলছে, ঋণ সহায়তার পাশাপাশি তাঁতিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

 

আর এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ রয়েছে বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ভারপ্রাপ্ত লিয়াজু অফিসার তারিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ট্রেনিং সেন্টার আছে। সেখানে যাওয়ার জন্য তাদের বার বার বলা হচ্ছে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। ন্যায্যমূল্যে সুতা পাওয়ার জন্য আমরা আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, তাদের টিকিয়ে রাখার জন্য নয় শুধু ভবিষ্যতে তাদের সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করতে হবে।

 

এ ঐতিহ্যকে বাংলাদেশে নয় শুধু সারা বিশ্বে ফুটিয়ে তোলার জন্য আমাদের যা যা করা লাগবে আমরা প্রশাসনের দিক থেকে তা করব। ক্রমাগত লোকসান, প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব, দফায় দফায় কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিলুপ্তির পথে এ তাঁত শিল্প। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাঁত শিল্পের পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ