
নিউজ ডেস্ক ।। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (এমসিএইচ-এফপি) ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানি ও সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। গত ২৪ মার্চ ‘যায়যায়দিন’ যুগান্তরও স্থানীয়’দৈনক সত্য সংবাদ ‘ ‘দৈনিক আজকের সুন্দরবন’ আলোকিত বরিশাল,বাংলার কন্ঠস্বর, বরিশাল ক্রাইম নিউজ, ফর্মাল নিউজ ২৪ আলোকিত বরিশাল পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) মাহবুব মোর্শেদ জানান, ডা. সোলায়মানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে ঝালকাঠি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালককে (এডি) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও লিগ্যাল নোটিশ অভিযোগ উঠেছে, গত ১৬ মার্চ মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনে সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করেন ডা. সোলায়মান। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হেলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বরিশালের সভাপতি শহীদুল্লাহ সুমন, সাধারণ সম্পাদক এম. জাহিদ, এসএ টিভির ব্যুরো প্রধান মুজিব ফয়সাল এবং সাংবাদিক তানজিমুল রিশাদসহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মী আইনজীবীর মাধ্যমে তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
নারী কর্মীর আর্তনাদ: অনৈতিক প্রস্তাব ও ছয় মাস বেতন বন্ধ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা উম্মে হাবিবা ছন্দা অভিযোগ করেছেন, ডা. সোলায়মানের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে প্রশাসনিকভাবে ‘টার্গেট’ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গর্ভপাতের পরও তাকে ছুটি না দিয়ে হয়রানি করা হয়। এমনকি ২০২৬ সালে পুনরায় গর্ভধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ সত্ত্বেও তাকে ছুটি না দিয়ে উল্টো গর্ভধারণের ‘প্রমাণ’ চাওয়া হয়। কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই গত ৬ মাস ধরে ওই নারী কর্মীর বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তাকে অনিরাপদ কোয়ার্টারে একা থাকতে বাধ্য করে মানসিক নির্যাতনের শিকার করা হচ্ছে।
অস্বাভাবিক সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. সোলায়মান মাসুমের পরিবারের নামে অস্বাভাবিক সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠেছে। তার বাবা একজন সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার উত্তরা, ফরিদপুরের ওয়ারলেস পাড়া এবং মেহেন্দিগঞ্জের বদুরপুর এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ জমি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিকানার তথ্যও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি পংকজ নাথের ঘনিষ্ঠ দোসর হওয়ায় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছেন তিনি। তার ভয়ে অনেক নারী কর্মচারী মুখ খুলতে সাহস পান না।
তদন্ত কমিটির তৎপরতা তদন্ত কমিটির প্রধান ঝালকাঠি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এডি জানান, অভিযোগগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে একজন নারী কর্মীর বেতন বন্ধ রাখা এবং সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে ডা. সোলায়মান মাসুমের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এড়িয়ে যান এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মেহেন্দিগঞ্জের সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ অবিলম্বে এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
[অনুসন্ধান চলমান… আগামী পর্বে থাকছে অবৈধ সম্পদ ও নিয়োগ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য]
Leave a Reply